নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: বর্তমানে SIR এর নথি যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।সেই আবহে এক অবাক করা কান্ড ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মগরাহাটে।অভিযোগ, জন্ম তারিখের দু’মাস আগেই ইস্যু করা হয়েছে জন্ম শংসাপত্র।
নথিগুলি মগরাহাট ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের নামে ইস্যু দেখানো হয়েছে।বিষয়টি নজরে আসতেই কমিশনের তরফে সংশ্লিষ্ট ডিইও-কে পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে।ফলে প্রশ্ন উঠছে,এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা,নাকি এই জাল নথি বড় কোনো চক্রের ইঙ্গিত।সাধারণ নিয়মে জন্মের পরে হাসপাতাল বা স্থানীয় পুরসভা/পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন হয় এবং তারপর জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়।জন্ম তারিখ এবং শংসাপত্র ইস্যুর তারিখ আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক,কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে জন্মের আগেই শংসাপত্র ইস্যু।এমন ঘটনা ঘটতে পারে যদি,নথি জাল করে পরবর্তীকালে ব্যাকডেট দিয়ে তৈরি করা হয়।ডিজিটাল পোর্টালে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য আপলোড করা হয়।ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি চক্র প্রশাসনিক ফাঁক গলে সক্রিয় থাকে।নির্বাচন কমিশন বারবার নির্দেশ দিয়েছে,নথি যাচাইয়ে ডিইও-দের কড়া নজরদারি রাখতে হবে।জেলাশাসকদেরও ব্যক্তিগতভাবে ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করতে হবে।সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে,ডিইও-র নজর এড়িয়ে কীভাবে এই নথি আপলোড হল?ব্লক স্তরে যাচাই প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ছিল?নাকি উচ্চপর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের ফাঁক থেকেই যাচ্ছে?উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছিল।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট।ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নথি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে এমনিতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে।তার মধ্যেই জাল নথি সামনে আসায় বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।জন্মের আগেই জন্ম শংসাপত্র,এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়,বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।এখন দেখার বিষয় হচ্ছে যে,তদন্তে দায় কার ওপর বর্তায় এবং কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।

