নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: চারিদিকে ঘন জঙ্গল,মাঝখান দিয়ে নির্জন রাস্তা।তবে এই নির্জন জঙ্গলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের এক বিস্মিত ইতিহাস।একসময় এই জায়গা থেকে গর্জে উঠত যুদ্ধ বিমান,আকাশ পথে চলতো নজরদারি।তবে বর্তমানে এই জায়গা একেবারেই শান্ত ও পরিত্যক্ত।তবুও ইতিহাস যেন কথা বলে।বর্ধমানে ইতিহাসে কম আলোচিত এক অধ্যায় লুকিয়ে আছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা অঞ্চলে।পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার কাছে ওরগ্রাম জঙ্গলে অবস্থিত গুসকরা এয়ারস্ট্রিপটি বর্তমানে একটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ হিসাবে পরিচিত।স্থানীয়দের মতে এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে,দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় এই এলাকায় একটি বিমান ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছিল।১৯৪২ সালের দিকে ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৪৪ সালের জানুয়ারিতে তা সম্পূর্ণ হয়।সে সময় পূর্ব এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মিত্র শক্তি বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নজর ঘাঁটি তৈরি করেছিল।গুসকরার এই এয়ার স্ট্রিপটি ও সেই পরিকাঠামোর একটি অংশ ছিল বলে ঐতিহাসিক দের একাংশের ধারণা।তৎকালীন বার্মা অঞ্চলে যুদ্ধ বিগ্রহ হবার পর আকাশ পথে নজরদারি চালানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ঐতিহাসিকদের বিবরণ অনুযায়ী এখান থেকে শত্রু পক্ষের অবস্থান নির্ণয়,মানচিত্র এবং আবহয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ প্রভৃতি কাজ করা হতো।সামরিক প্রয়োজনে রানওয়ে বেরাক ও গোলা বারুদ সংগ্রহের জন্য আলাদা আলাদা ঘরও নির্মিত হয়েছিল।যার ধ্বংসাবশেষ এখনও চোখে পড়ে।১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ধীরে ধীরে এই স্থানটির গুরুত্ব কমে যায় এবং জায়গাটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।বর্তমানে বিস্তীর্ণ ফাঁকা রানওয়ে ভাঙ্গাচোরা স্থাপনা এলাকাটির অতীতের স্বাক্ষ্য বহন করছে।স্থানীয় মানুষজন মাঝে মধ্যে এই খোলা জায়গাটি ব্যবহার করেন এবং বেশ কিছু ইতিহাস প্রেমীরা এখানে আসেন।ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই নির্জন এয়ারস্ট্রিপটি আজও স্মরণ করিয়ে দেয় যে,বর্ধমানের মাটিতেও লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ইতিহাসের এক নীরব স্মৃতি।সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে গেছে।যুদ্ধ থেমে গেছে বন্ধ হয়েছে বিমান ওড়া তবে আজও বর্ধমান জেলার এই পরিত্যক্ত জায়গাটি সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে ভয়াবহ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের স্মৃতি হিসাবে।

