নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু মহাকরণ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই ভবনকে আধুনিক প্রশাসনিক চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু হয়েছে পুনর্নবীকরণের উদ্যোগ।২০১১ সালে বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে যখন বাংলার মসনদে এসেছিল তৃণমূল সরকার। সেই সময় তারা মহাকরণের বদলে বেছে নিয়েছিল হাওড়ার একটি সরকারি দফতর। পরে সেটিকে মেরামতি করে, বরং বলা ভালো উন্নত করে তৈরি হয় আজকের ‘নবান্ন’। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসে এই নবান্ন থেকে কোনো ভাবেই নতুন সরকার পরিচালনা করবে না বলেই আপাতত জানা যাচ্ছে। মহাকরণের এক কর্মী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নবান্নের একাধিক দফতর মহাকরণে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী মহাকরণ সরকার চালানোর জন্য সম্পূর্ণভাবে কবে প্রস্তুত হবে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আগামী ৯ই মে অর্থাৎ ২৫-শে বৈশাখের দিন শপথ নেবেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এতো কম সময়ের মধ্যে কীভাবে মহাকরণকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা সম্ভব হবে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ বিগত ১৫ বছর ধরে এই দফতরের অধিকাংশ বিভাগই বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অযত্ন, অবহেলাএবং যথাযথ পরিচর্যার অভাবে বর্তমানে ধুঁকছে এই ঐতিহ্যবাহী ‘লালবাড়ি’। তবে যা খবর শোনা যাচ্ছে তাতে আর কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় গমগম করবে মহাকরণ। আপাতত জানা যাচ্ছে, লালবাড়ির ‘এ’ ব্লক ও ‘বি’ ব্লকের একটা অংশ প্রস্তুত হয়েছে। আর ইতিমধ্যে এই দুই ব্লকে পূর্ত দফতরের একাধিক অফিস ও রয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে মুখ্যমন্ত্রী-সহ তিনটি দফতর স্থানান্তরিত করা হবে বলে সূত্রের খবর।নতুন সরকারের লক্ষ্য—ঐতিহ্য অটুট রেখে প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুতগামী এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। সূত্রের খবর, মহাকরণের ভিতরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং কর্মপরিবেশের আধুনিকীকরণ—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরনো দপ্তরগুলির সংস্কার, ফাইল ব্যবস্থাপনায় ই-গভর্ন্যান্স চালু এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ইতিমধ্যেই পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পুনর্নবীকরণ শুধু একটি ভবনের সংস্কার নয়, বরং সরকারের কাজের ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং পরিষেবার সময়সীমা কমিয়ে আনা—এই সব ক্ষেত্রেই নতুন দিশা দেখাতে চায় প্রশাসন। আধুনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী মহাকরণকে আধুনিক প্রশাসনিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সফল হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবর্তনের এই আবহে মহাকরণের পুনর্নবীকরণ তাই শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রশাসনিক সংস্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


