নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ার জাতীয় সড়কের নিমদীঘি সংলগ্ন উলুবেড়িয়া – আমতা রোডের প্রবেশ পথের মাঝের আঁটি পানপুর মোড়ে মাঝের আঁটি ‘ তরুণ সংঘ ‘ – র উদ্যোগ ও পরিচালনায় ঝুলন উৎসব উপলক্ষে বিবেকানন্দ পার্কে শুরু হয়েছে ২৫ দিন ব্যাপী ১ম বার্ষিক ঝুলন উৎসব মেলা।
এই উৎসব মেলা প্রসঙ্গে উৎসব মেলা কমিটির সম্পাদক অহীন সিংহ রায় বলেন, ” আমাদের এই উলুবেড়িয়ায় উলুবেড়িয়া কালীমন্দির কমিটির পরিচালনায় কালীমন্দির প্রাঙ্গণে প্রায় এক মাস ব্যাপী রাস উৎসব ও মেলা হয়ে থাকে। এই এলাকার মানুষদের ঐ মেলায় যেতে হয় হাই রোড, রেললাইন পেরিয়ে।যেটা অতি ঝুঁকি পূর্ণ। উলুবেড়িয়ায় আরো একটি গ্ৰামীণ মেলা বৈশাখ মাসে হয়ে থাকে।যে মেলায় এই এলাকার মানুষদের যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সব সময় যেতে পারে না। আমাদের সংঘ – র পরিচালনায় এই বিবেকানন্দ পার্কে হরিনাম সংকীর্তন, দূর্গাপূজা সহ নানান অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। আমাদের এই এলাকায় কোনো মেলা হয় না। এলাকার মানুষদের বহুদিন ধরেই ইচ্ছা প্রকাশ করছিল , এলাকায় একটা মেলা হোক।মানুষজনদের সেই ইচ্ছা ও আশা পূরণ করার জন্য আমরা সংঘ – র সভ্য বৃন্দ এই এলাকায় একটা মেলা করার পরিকল্পনা করি।ঠিক হয় ,ঝুলন উৎসব কে কেন্দ্র করে সংঘ – সামনে বিবেকানন্দ পার্কে এই মেলা করা হবে।মাত্র ১৫ দিনের প্রস্তুতিতে আমরা ১ ম বার্ষিক ঝুলন উৎসব মেলা চালু করেছি।মেলা – য় অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও আমরা এই অল্প সময়ে মধ্যে তা করে উঠতে পারি নি। আগামী বৎসরে আমাদের পরিকল্পনা আছে, ঝুলন উৎসব মেলা কে সামনে রেখে এক এক দিন আমরা সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, অঙ্কন, যোগব্যায়াম সহ নানান প্রতিযোগিতা,সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক,যাত্রা, সচেতনতামূলক নানান আলোচনাচক্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, রক্তদান শিবির, মরণোত্তর চক্ষুদান ও দেহদান সম্পর্কীত আলোচনাচক্র সহ অঙ্গীকারপত্র স্বাক্ষর সহ নানান অনুষ্ঠান করার।
প্রায় প্রত্যহ বৈকালিক ও সান্ধ্যকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে মেলা প্রাঙ্গণে জনতার ঢল নামছে। এই মেলায় গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সাজসজ্জার অলংকার, বাচ্চাদের নানান খেলনা, রেস্টুরেন্ট,পাঁপড়- জিলিপি- বাদাম সহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান আছে। আছে বাচ্ছাদের বিনোদনের জন্য রাইড, রেলগাড়ি,মিকি মাউস – এ চড়ার সুযোগ।
মেলা কমিটির সম্পাদক অহীন সিংহ রায় বলেন, ” এই বৎসর এই মেলা বিবেকানন্দ পার্কে শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যাবে সংঘ – র পরিচালনায় দূর্গাপূজা – র মন্ডপ নির্মাণ। পূজার মরসূম শেষ হলেই আগামী বৎসর ঝুলন উৎসব মেলা – র প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হবে।


