*নিজস্ব সংবাদদাতা:* National Democratic Alliance-এর মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময়ে ৭টি রাজ্য থেকে ২২টি রাজ্যে শাসন বা জোটের অংশীদারিত্ব— এই দ্রুত বিস্তার ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়ে, দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে অনেকাংশে ‘গেরুয়া’ রঙে রাঙাতে সক্ষম হয়েছে এই জোট। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর থেকেই বিজেপি তথা এনডিএ তাদের রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনে। শুধুমাত্র হিন্দি বলয়ের উপর নির্ভর না করে, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে বিস্তারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।প্রথম ধাক্কা আসে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে—উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র , হরিয়ানা-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে একের পর এক সাফল্য পায় বিজেপি। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতে ‘লুক ইস্ট’ কৌশল কার্যকর করে আসাম, ত্রিপুরা মণিপুরে-এও নিজেদের ভিত্তি মজবুত করে তোলে। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ র যুগলবন্দি সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।এনডিএ শুধুমাত্র বিজেপির বিস্তার নয়, বরং আঞ্চলিক দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছে। Janata Dal (United), Shiv Sena (একাংশ), AIADMK-এর মতো দলগুলির সঙ্গে জোট গড়ে রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা দখল সহজ হয়েছে। উজ্জ্বলা, আয়ুষ্মান, আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে ভোটের বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নয়নের বার্তা ও জাতীয়তাবাদের মিশেলে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি। যদিও উত্তর ও পশ্চিম ভারতে সাফল্য এসেছে, তবে তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গে-এর মতো রাজ্যে এখনও পুরোপুরি আধিপত্য কায়েম করতে পারেনি এনডিএ। তবে ভোট শতাংশ বৃদ্ধি এবং সংগঠন বিস্তারের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি শক্ত করা হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনডিএ-র এই উত্থান কেবলমাত্র নির্বাচনী সাফল্যের ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত পরিকল্পনার ফল। বিরোধীদের বিভাজন, আঞ্চলিক দলগুলির দুর্বলতা এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—এই তিনের সমন্বয় এনডিএ-কে এগিয়ে দিয়েছে। অনেক বিরোধী দল শুধু নির্বাচনের সময়ই সংগঠিত হয়, কিন্তু এনডিএ-র সাংগঠনিক কাঠামো বছরের ৩৬৫ দিনই সক্রিয় থাকে। যা নজিরবিহীন। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ মডেলকে (রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দল) জোরালভাবে তুলে ধরেছিল এবং যুক্তি দিয়েছিল যে এর ফলে দ্রুততর উন্নয়ন সম্ভব হবে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একেবারে ৭থেকে ২২ – সংখ্যার এই লাফ শুধু গাণিতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সর্বোপরি এনডিএ-র নির্বাচনী বিজয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা। মোদি এক সরকার-বিরোধী ঢাল’ হিসেবে কাজ করে, যেখানে ভোটাররা স্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে দলটিকে সমর্থন করেন। অমিত শাহকে প্রায়শই বলা হয়ে থাকে‘মাস্টার স্ট্র্যাটেজিস্ট’। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপির সদস্য সংখ্যা ২.৪৭ কোটি থেকে বেড়ে ১১ কোটিরও বেশি হয়, যা দলটিকে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই আজ ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ মতো জনমুখী প্রকল্পের আলোকে ‘গেরুয়া’ আবেগে ভাসছে সমগ্র বঙ্গবাসীবৃন্দোও।


